• আজ- লোড হচ্ছে...

মন্ত্রীর নির্দেশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সতর্কবার্তাতেও কমছে না জনদুর্ভোগ

নজর.কম ডেস্ক / ০ বার ভিজিট
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খুলনার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ পারাপার কেন্দ্র রূপসা ঘাট যেন এক নৈরাজ্যের জনপদে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে সহজ ও নিরাপদ করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে চলছে অনিয়ম ও অতিরিক্ত টোল আদায়ের মহোৎসব। সম্প্রতি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের জোরালো ক্ষোভ প্রকাশ এবং মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, দেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কবার্তা। তবে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের এমন ঝটিকা অভিযান বা সতর্কতায় আদতে কতটা বদলাবে রূপসা ঘাটের এই নৈরাজ্যকর চিত্র? সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটা এবং ট্রলার মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা কি তবে থামবে না? গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় রূপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তিনি জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “সব থেকে আমি সমস্যায় থাকি এই রূপসা ঘাট নিয়ে। ওই রূপসা ঘাটে হরিলুট হচ্ছে। একজন লোক একটা ব্যাগ বা মুরগি নিয়ে পার হতে গেলে তার ওপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন তারা ভ্যাট বা ট্যাক্স অফিসার।” এমপি হেলাল আরও জানান, পূর্বের ও বর্তমান পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের বহুবার জানিয়েও সুফল মেলেনি। তবে তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘাটে ফেরি চালুর আশার কথা শোনান। এমপির এমন অভিযোগের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে রূপসা ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই নির্দেশ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রূপসা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় ঘাটে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত কঠোর নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ টোল আদায় চিরতরে বন্ধ করা এবং মাঝিদের নৈরাজ্য রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। সাধারণ মানুষ আর আশ্বাসের বাণী শুনতে চায় না, তারা চায় রূপসা পারাপার হোক নির্বিঘ্ন ও হয়রানিমুক্ত।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর