দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস পর্যটকশূন্য থাকার পর অবশেষে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত শুরু হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রথমবারেরমতো ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে দ্বীপটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি বার আউলিয়া।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে জাহাজটিকে চলাচলের অনুমতি দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এতে স্বস্তি ফিরে দ্বীপের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, জাহাজ মালিক ও পর্যটকদের মধ্যে।
প্রথমদিন তিনটি জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর ছাড়পত্র, জাহাজের কাগজপত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছিল জাহাজ মালিকদের।
একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, কাল থেকে এমভি টেকনাফ এবং কর্ণফুলী জাহাজ চলাচল করবে।
একই সাথে সরকারি নিয়ম মেনে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
সী-ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, রাতে যাচাই-বাছাই শেষে এমভি বার আউলিয়া জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সকালে ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে এই বছর প্রথম জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে অন্য জাহাজগুলোও চলাচল শুরু করবে বলে জানান তিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়ার যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন। এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন। তিনটি জাহাজের মোট ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন।
এদিকে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) এর সাধারণ সম্পাদক আকতার নুর জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার ক্ষেত্রে কেবিনের সুবিধা রয়েছে।
অন্যদিকে দ্বীপের ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পর্যটক আসা শুরু হলে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে। দীর্ঘদিন পর্যটকশূন্য থাকার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়াকে তাঁরা দ্বীপ এবং দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দ্বীপবাসী।
প্রসঙ্গত: সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পাশাপাশি দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫০০ পর্যটক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
