মার্কিন কংগ্রেসে আটজন মুসলিম আইনপ্রণেতার প্রবেশের মধ্য দিয়ে মুসলিম আমেরিকান রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হয়েছে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটে আব্দুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক জয়ের পর এই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর।
মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম কোনো মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এল-সায়েদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান ইলহান ওমর।
আরবি দুটি জনপ্রিয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করে ওমর লেখেন, “অভিনন্দন, আব্দুল এল-সায়েদ। আপনি সেই ‘ইনশাআল্লাহ’কে ‘আলহামদুল্লিাহ’-য় রূপান্তর করেছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমি খুব কৃতজ্ঞবোধ করছি এই ভেবে যে, এখন থেকে কংগ্রেসে আমাদের ৮ জন মুসলিম দায়িত্ব পালন করবেন।”
৪২ বছর বয়সী আব্দুল এল-সায়েদ পেশায় একজন চিকিৎসক এবং মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের সাবেক পরিচালক। মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান সন্তান এল-সায়েদ এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আগস্ট মাসের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি হেইলি স্টিভেন্স ও স্টেট সিনেটর ম্যালোরি ম্যাকমোরোকে পরাজিত করে সাধারণ নির্বাচনে আসেন তিনি। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত সাবেক কংগ্রেসওম্যান ও এফবিআই এজেন্ট মাইক রজার্স।
এল-সায়েদের নির্বাচনি প্রচারণার মূল এজেন্ডা ছিল- সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব সীমিত করা। এছাড়া ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় বিষয়টি নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
প্রচারণার সময় ট্রাম্প ও রিপাবলিকান মিত্ররা এল-সায়েদের দেশপ্রেম ও চরমপন্থিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে এল-সায়েদ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এই অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প শিবিরের এসব আক্রমণকে ইসলামোফোবিক বা ইসলামবিদ্বেষী বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
কংগ্রেসে এবার বিজয়ী ও পুনর্নির্বাচিত আট মুসলিম আইনপ্রণেতা হলেন- আব্দুল এল-সায়েদ, ইলহান ওমর, রশিদা তালাইব, আন্দ্রে কারসন, লতিফা সিমন, অ্যাডাম হামাউই, ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে এবং আয়েশা ওয়াহাব। এদের মধ্যে আব্দুল এল-সায়েদ একমাত্র সিনেটর এবং বাকি সাতজন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সদস্য।
২০০৬ সালে কিথ এলিসন মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই সংখ্যা আটে পৌঁছাল।
তথ্যসূত্র: রোয়া নিউজ
