• আজ- লোড হচ্ছে...
শিরোনাম >>
ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৫ শুরু: ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ঘরভর্তি পণ্য ফ্রি পেলেন পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে: আইজিপি যেভাবে সময় কাটে ‘লাগে উড়াধুরা’ গায়িকা অন্তরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি! এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ: ক্রিকেট ও ফুটবলে কোন দিন কোন দলের খেলা? ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রশংসিত আনভীর স্টেডিয়াম এসিল্যান্ডের রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট, ইউএনও বললেন ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে, ফ্লাইট দ্বিগুণ, সব টিকিট শেষ তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের অপসারণের দাবিমানববন্ধন

শ্যামনগর উপকূলীয় নারীদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে নদীর ওপর

ডেস্ক রিপোর্ট: / ১৩৫ বার দেখেছে
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৯  |  আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৯

সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক নারীর জীবন-জীবিকা নির্ভর করে নদীর ওপর। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কেউ সংসারের কাজ শেষ করে, কেউ আবার সন্তানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে নেমে পড়েন নদীতে। হাতে জাল, চোখে পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন। নদীর পানিতে জাল টেনে মাছ ও চিংড়ি ধরে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

প্রতিকূল পরিবেশ, নদীর জোয়ার-ভাটা, বৈরী আবহাওয়া আর জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটে এসব নারীর। তাঁদের কাছে নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়, নদীই বেঁচে থাকার অবলম্বন, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ভরসা।

নদীতে জাল টানাই তাঁদের জীবিকার অবলম্বন: উপকূলীয় জনপদের অনেক নারী নদী ও নদীসংলগ্ন খালে জাল টেনে ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ সম্পদ সংগ্রহ করেন। কেউ পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে মাছ ধরেন, আবার কেউ নিজেরাই নদীতে নেমে জীবিকার সন্ধান করেন। সংগৃহীত মাছ বিক্রি করে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন তাঁরা।

কোনো দিন জালে ভালো মাছ ধরা পড়লে কিছুটা স্বস্তি আসে সংসারে। আবার কোনো দিন দীর্ঘ সময় নদীতে থেকেও আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় না। তখন পরিবারের খরচ মেটাতে তাঁদের পড়তে হয় বিপাকে। তবুও জীবিকার তাগিদে পরদিন আবারও নদীতে নামতে হয়।

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই: সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনকে বারবার বিপর্যস্ত করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়ে এসব নারীর জীবনেও। দুর্যোগের সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে তাঁদের আয় কমে যায়। অনেক পরিবারের সঞ্চয় না থাকায় কয়েক দিনের কর্মবিরতিও বড় সংকট তৈরি করে।

এ ছাড়া নদীতে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া, মাছ ধরার উপকরণের খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ার মতো সমস্যাও তাঁদের জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি তাঁদের সামলাতে হয় সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব।

উপকূলীয় নারীরা পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের শ্রম অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। নদীতে মাছ ধরার পর মাছ বাছাই, বিক্রি এবং সংসারের যাবতীয় কাজও তাঁদের সামলাতে হয়। কিন্তু জীবিকার ঝুঁকি মোকাবিলা, আর্থিক নিরাপত্তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেকের জন্যই সীমিত।

এসব নারীর জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা, মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন সামাজিক সুরক্ষা। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে নদীনির্ভর পরিবারগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।

নদী বাঁচলে বাঁচবে উপকূলের জীবন: উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের গল্প। প্রতিদিন নদীতে জাল টেনে তাঁরা প্রমাণ করছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবন থেমে থাকে না।

তবে তাঁদের এই সংগ্রামকে টেকসই করতে হলে নদী ও জলজ সম্পদের সুরক্ষা, নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ এবং নারীবান্ধব জীবিকাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। নদীর ওপর নির্ভরশীল এসব নারীর পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু কয়েকটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং উপকূলের অর্থনীতি ও সমাজকে শক্তিশালী করা। উপকূলের নদীতে জাল টানা নারীদের ঘামে ভেজা জীবনের গল্প তাই নতুন করে ভাবতে শেখায়-যাঁদের পরিশ্রমে সংসারের চাকা ঘোরে, তাঁদের জীবিকা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নিউজটি শেয়ার করুন:
add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর