• আজ- লোড হচ্ছে...
শিরোনাম:
আশাশুনির প্রতাপনগরে ভাসমান মসজিদ-সেতু কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে ‘বিশেষ সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগ এক মঞ্চে তিন প্রজন্মের ইতিহাস, জাতিসংঘে তারেক রহমান উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিক ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো বন্ধে কড়াকড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন রাতভর মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখলে কি ব্যাটারি নষ্ট হয়? ক্যাটরিনার পাশে সালমান, নতুন আলোচনায় অভিনেতা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আশাশুনির প্রতাপনগরে ভাসমান মসজিদ-সেতু

নজর ডট কম ডেস্ক / ৭ বার ভিজিট
আপডেট: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ ছয় বছরেও কাটেনি। এখনো প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ছয় গ্রামের প্রায় ২৮ হাজার মানুষকে চলাচলে নির্ভর করতে হচ্ছে নৌকা, বাঁশের সাঁকো ও ভাসমান সেতুর ওপর। ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগরের উপকূলরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। পরের বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে বসতভিটা, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোথাও সড়কের অস্তিত্ব হারিয়ে নদী ও খালের সংযোগ তৈরি হয়েছে। ছয় বছর পরও ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ পুনর্র্নিমাণ হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো ও নৌকাই হয়ে উঠেছে মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা। দুর্বল সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের নিয়ে চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আম্পান ও ইয়াসে হাওলাদার বাড়ি বায়তুন্নাজাত জামে মসজিদও পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চারপাশের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মসজিদের ভেতরেও পানি ঢুকে যায়। একপর্যায়ে ইমামকে সাঁতরে মসজিদে গিয়ে আজান ও নামাজ আদায় করতে হয়েছে। পানিবন্দি মুসল্লিদের কথা বিবেচনা করে পরে একটি বড় নৌকার ওপর তৈরি করা হয় ভাসমান মসজিদ। প্রায় ৫২ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট চওড়া মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন নামাজ আদায় করতে পারতেন। সেখানে অজুর ব্যবস্থা, চারটি পানির ট্যাপ ও একটি শৌচাগারও ছিল। মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য একটি নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়। পরে মসজিদ এলাকায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। পানিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের চলাচলের জন্য বেসরকারি সংগঠন শামসুল হক ফাউন্ডেশন প্রায় ৩৫০ ফুট দীর্ঘ একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করে। ৫৬টি দুই লিটারের ড্রাম, কাঠ ও পেরেক দিয়ে তৈরি সেতুটিতে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়। সেতুটি নির্মাণের পর ওই এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পান। তবে স্থানীয়দের মতে, ভাসমান মসজিদ, ভাসমান সেতু কিংবা বাঁশের সাঁকো স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব অস্থায়ী ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে গিয়ে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। প্রতাপনগরের উপাধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান বলেন, “প্রতাপনগর একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন। সুন্দর যোগাযোগব্যবস্থা লন্ডভন্ড হওয়ার পর মানুষের যাতায়াতের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা সরকার এগিয়ে আসেনি। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো, ভাসমান সেতু, নৌকা ও ভাসমান মসজিদের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এমপি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।” ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী বলেন, “ওয়াপদা বাঁধ ভেঙে ইউনিয়নটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সনাতনকাটি ও কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ ফুট গভীর ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সাঁকো ও নৌকার পাশাপাশি মানুষকে দীর্ঘ বিকল্প পথ পাড়ি দিয়ে তালতলা হয়ে বাজার, স্কুল-মাদ্রাসা ও দৈনন্দিন কাজে যেতে হয়। সাঁকো ভেঙে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ভাসমান সেতু ও মসজিদ দীর্ঘদিন টেকসই নয়। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।” উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নিমার্ণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। প্রতাপনগরের মানুষের প্রশ্ন—দুর্যোগের পর অস্থায়ী ব্যবস্থা আর কতদিন চলবে? স্থায়ী ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা কবে হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর