খুলনায় আঠারোবেকি নদী থেকে দুই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলার রূপসা উপজেলার আইচগাতি জেলখানা ঘাট সংলগ্ন সিংহের চরে মরদেহ দুটি ভেসে ওঠে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মেহেদী হাসান সোহাগ ও রেজাউল করিম। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিহত দুজনই খুলনার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র সক্রিয় সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
তারা জানান, সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন আঠারোবেকি নদীতে প্রথম একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরবর্তীতে ভাটার কারণে পানি কমে গেলে একই স্থানে আরও একটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, রোববার (১ নভেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সোহাগ ও রেজাউলকে নদীর সংলগ্ন কোনো নির্জন এলাকায় ধরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের গলা কেটে হত্যা করার পর মরদেহ নদীতে ফেলে রাখা হয়। প্রতিপক্ষ অপরাধী চক্র বা শত্রুভাবাপন্ন কোনো গ্যাং এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রূপসা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।
এদিকে জোড়া গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় মারাত্মক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্রের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এলাকায় পাল্টা হামলা ও প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যায়। হত্যাকাণ্ড কীভাবে সংগঠিত হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা জানতে তদন্ত চলছে।’









