সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামে নীলা খাতুন (১৬) নামে একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে যাতায়াতের পথে নিলা খাতুনকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২)। এ বিষয়ে নিলার বাবা লিটন শেখ উত্ত্যক্তকারীদের অভিভাবককে কয়েকবার বিষয়টি জানিয়ে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল।
গত ১ অক্টোবর তারা লিটন শেখের বাড়িতে গিয়ে নিলাকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করে। পরে নিলার নামে বাইরে অপপ্রচার করতে থাকে। এর প্রতিবাদ জানালে প্রতিবেশী আমজেত শেখের মেয়ে আকলিমা খাতুনের সঙ্গে নিলার তর্ক হয়।
গত ২ অক্টোবর নিজ কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে নিলার বাবা লিটন শেখকে ধরে নিয়ে বাড়ির উঠানের বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে আমজেদ শেখ, রকি, শোয়েব, ইমন, ইমরান ও আকলিমা। খবর পেয়ে বাবাকে বাঁচাতে নিলা ও তাঁর মা দেলোয়ারা বেগম এগিয়ে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
লিটন শেখ জানান, এ ঘটনার পর ওই দিনই তিনি তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। থানায় অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি লোকমুখে জানতে পেয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
নীলার মামা সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটির কাছাকাছি ছিল। তাঁর গলায় ফাঁসের স্বাভাবিক দাগ ছিল না। এ ছাড়া নীলার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নীলার বাবা লিটন শেখ সাতজনের নাম উল্লেখ করে তালা থানায় মামলা করেছেন। ৫ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় আমজেত শেখ (৫০), রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালি (১৮), ইমন শেখ (২২), ইমরান শেখ (২৮), আকলিমা বেগম (২৫) ও আকবর শেখকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় নীলাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগের পাশাপাশি আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা বাধ্য করার অভিযোগও সন্দেহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার পর থেকে এজাহারভুক্ত আসামিরা বাড়িতে নেই বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তালা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে নীলার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে আগে দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম ওসির অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
