• আজ- লোড হচ্ছে...
শিরোনাম >>
সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাতক্ষীরায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত মার্সেলের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৫ শুরু পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল তালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ৮০টি বাইসাইকেল বিতরণ করেন প্রশাসক হাবিব সাতক্ষীরায় জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রিপন বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন শ্যালিকাকে বিয়ে, সমালোচনায় তালাকের ঘোষণা আইসিসিবিতে ৪৪ প্রতিষ্ঠানের ফার্নিচার মেলা শুরু

সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক / ৩ বার দেখেছে
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৩  |  আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৩

দেশে ভবিষ্যতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তাদের আবেদন যথাযথভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে না আসা ব্যক্তিদের স্বজন এবং ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৮ জনের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ‘মায়ের ডাক’সহ কয়েকটি সংগঠন সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন, গুমের শিকার হয়ে এখনো ফিরে না আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কেউ স্ত্রী, কেউ সন্তান, কেউবা বাবা-মা। তাদের আবেগ, বেদনা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা শুনে কমিটির সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মূল দাবি হলো-ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন, গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। দায়ী ব্যক্তির সম্পদ না থাকলে বা তা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পত্তির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও আইনে বিধান রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশে আর কখনো এমন সময় ফিরে না আসুক। গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক। এ দেশে আর কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা না ঘটুক। পুলিশি ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাও বন্ধ হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন। এ জন্য সংবিধানে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে এবং যেসব বিষয় আইন বা বিধিবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব, সেগুলো সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সুরক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকারের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরও আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

গুমের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখা দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করা হবে না; অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তদন্তপ্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।

বিরোধী দলের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে সমালোচনা ও আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের দাবি ও মতামত তুলে ধরলে সেগুলো বিবেচনার সুযোগ থাকত।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, সম্পাদকমণ্ডলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কমিটি নানা প্রস্তাব পেয়েছে। এসব প্রস্তাব সংকলন করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। তবে এর গঠনপ্রক্রিয়া, কার্যপরিধি, গঠনের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পরীক্ষা করা হবে। সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপনের পর বিতর্কের সময়ও নতুন প্রস্তাব আসতে পারে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন।

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী তাদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের ঘটনা এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন:
add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর