• আজ- লোড হচ্ছে...
শিরোনাম >>
ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৫ শুরু: ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ঘরভর্তি পণ্য ফ্রি পেলেন পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে: আইজিপি যেভাবে সময় কাটে ‘লাগে উড়াধুরা’ গায়িকা অন্তরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি! এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ: ক্রিকেট ও ফুটবলে কোন দিন কোন দলের খেলা? ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রশংসিত আনভীর স্টেডিয়াম এসিল্যান্ডের রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট, ইউএনও বললেন ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে, ফ্লাইট দ্বিগুণ, সব টিকিট শেষ তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের অপসারণের দাবিমানববন্ধন

পবিত্র নগরী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন, ভূপাতিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৪ বার দেখেছে
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩৩  |  আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৩৬

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও পবিত্র নগরী মদিনার দিকে ধেয়ে আসা পাঁচটি ড্রোন আকাশেই আটকে ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এসব ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে জোটের মুখপাত্র। সাম্প্রতিক সময়ে মদিনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনার মধ্যে নতুন এই ঘটনা সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং মদিনার দিকে আসা পাঁচটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো আটকে ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোনগুলো হুথি বিদ্রোহীরা নিক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মদিনাকে লক্ষ্য করে বারবার ড্রোন হামলা

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র শহর মদিনা। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মসজিদে নববি এবং তাঁর রওজা মোবারক এই শহরেই অবস্থিত। ফলে মদিনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ধর্মীয় ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

এর আগে সাম্প্রতিক সময়ে মদিনাকে লক্ষ্য করে আরও দুই দফা ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেসব ড্রোনও আকাশেই আটকে ধ্বংস করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সর্বশেষ হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাতের পটভূমি

সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাতের সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর হুথি যোদ্ধারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন।

হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রথম দিকে এই অভিযানে অংশ নেয়। তবে পরবর্তী সময়ে আমিরাত জোট থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে।

বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সরকারের প্রভাব রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর আবারও বাড়ছে উত্তেজনা

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা অনেকটা কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এরপর সৌদি আরবের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার অভিযোগ সামনে আসে।

এদিকে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতা দেখা দিলে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, মদিনা ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে পাঁচটি ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হামলার বিস্তারিত উদ্দেশ্য, ড্রোনগুলোর ধরন এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:
add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর