পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে ৩০ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষিকাসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শহরটির আফ্রিদি আবাদ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম সংবাদমাধ্যম ডনকে জানান, দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আরো ৩০ জনেরও বেশি মানুষ।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফাইজি জানান, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর লেডি রিডিং হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে জানান, আল খায়ের স্কুলের ছাদ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ছিল। হঠাৎ ছাদ ধসে পড়লে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সামিউল্লাহ। তিনি ডনকে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে আট বছরের কম বয়সি তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছেন তিনি।
সামিউল্লাহ বলেন, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ি থেকে ফোন পান। প্রায় ১০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর ছয় সন্তান ওই স্কুলে পড়ে। ভবনটি দেখে প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, নিচতলার যে শ্রেণিকক্ষে তাঁর ছেলে ছিল, তার ওপরের ছাদ ধসে পড়ায় ছেলেও হয়তো মারা গেছে। তবে পানি পান করতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে যাওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইসহাক দার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও নিহতদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে দুর্ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। পাশাপাশি ছাদ ধসের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, প্রদেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদ পেশোয়ারের সিসিপিওকে উদ্ধার অভিযান তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্সের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশকে ‘গ্রিন করিডর’ চালু করতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকারী ও পুলিশ দলকে প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
