রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও তা আপাতত স্থগিত হয়েছে। অভিযোগ, এই জ্বালানি পরিবহনে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আকাশপথ ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে আসছে। অক্টোবর থেকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু করছে রাশিয়া।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন-রোসাটম এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে রোসাটম জানায়, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের কাজ চলবে। আর ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ইউরেনিয়ামের সরবরাহ প্রক্রিয়া শেষ হবে।
চুক্তি ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোট সাতটি চার্টার্ড ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু জ্বালানিও আসবে।
রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে আসে। এসব দেশের সবার আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় সম্প্রতি ইউরেনিয়ামের চালানের ফ্লাইট আটকে যায়। তবে, নতুন করে সেই অনুমোদন মেলায় অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি।
আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর একটি জ্বালানিবাহী ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে আপত্তির কারণে সেটি আসতে পারেনি। তবে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে ওই আপত্তি আর নেই। রাশিয়া নতুন করে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি দিয়েছে। ফলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম বা জ্বালানি দেশে আসে। পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর সড়কপথে সেগুলো রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়। ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন সম্পন্ন হয় মে মাসে।
রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এতে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থাকছে। জেনারেশন থ্রি প্লাস প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক সব নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে সক্ষম। প্রকল্পটির জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ।
