সৌদি আরবে শিরশ্ছেদ হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, রায়ের কপি চেয়ে সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কপি হাতে পেলেই ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে এর বেশি কিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়নি।
কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো আছে এবং সেখানকার বিচারব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সিদ্ধান্ত হয়। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে সে বিষয়ে জানা সরকারের প্রয়োজন। এ কারণেই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ সবকিছুর একটা প্রক্রিয়া থাকে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার পর লাশ হয়ে ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য যেমন দুঃখজনক, সরকারের জন্যও ততটাই দুঃখজনক। তিনি জানান, সরকার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।
শামা ওবায়েদ জানান, কোনো বাংলাদেশি অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হয়েছেন, এমন তথ্য মিশন বা মন্ত্রণালয়ের কাছে এলে কূটনৈতিক চ্যানেলে সৌদি সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলা হয়। সেখানে দণ্ড মওকুফ বা ক্ষমার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা অন্য একটি দেশের জুডিশিয়াল সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করব না। কিন্তু একই সঙ্গে নিজ দেশের নাগরিকদের বাঁচানোর জন্য যা করা দরকার, তা সরকার সম্পূর্ণ করবে, যদি আমরা বিষয়টি জানতে পারি।’
শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরব বিভিন্ন সময় দেশটিতে কারাগারে থাকা বাংলাদেশি বন্দীদের তালিকা পাঠায়। বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত হয়ে তারা সেখানে কারাভোগ করছেন। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি ওই তালিকায় ছিলেন কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পেলে কী অভিযোগে এবং কী প্রক্রিয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মামলা ও আদালতের রায়ের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। পরে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, নিহতের পরিবারকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছেন উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
এ ছাড়া, যারা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ফিরতে পারছেন না, তাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
