দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেককেই দিন রাত সজাগ থাকতে হবে এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে পূজা মণ্ডপগুলোতে। কেউ যেন ধর্মের বিষয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। নিরাপত্তা এবং তাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া, নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টা আমাদের সবাইকে আমাদের করতে হবে।”
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজন করে বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, “এই অপশক্তি লুটপাটের টাকা দিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তা দিয়ে তারা দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরি করে বোমাবাজি করে সন্ত্রাস করে। ফ্যাসিস্ট শক্তি একটা পরিস্থিতি তৈরি করে বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার পাঁয়তারা করছে।”
তিনি বলেন, “সরকার দিন রাত পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এবং সতর্ক নজরদারির মধ্যে দিয়ে নীল পরিকল্পনাকারীদের আস্তে আস্তে ধরা হচ্ছে।”
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “লুটপাটের টাকা আওয়ামী ফ্যাসিবাদদের হতে। দেশকে এক ভয়ংকর অমানিশার মধ্যে রেখে পালিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। এখন সেটা পুনর্গঠনের কাজ করছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।”
তরুণদের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “জুলাই বিপ্লবে তরুণ ছাত্রনেতারা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের যে প্রচেষ্টা তা নিঃসন্দেহ প্রশংসার দাবিদার। তারা সেই সময় দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র নিয়ে তারা ভেবেছে এবং শেখ হাসিনার ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যে তারা এই কাজগুলো করেছে। তরুণরা আছে বলেই দেশটি আবার ফিরে আসতে পেরেছে আবার তার স্বাধীনতা রক্ষা করতে পেরেছে।”
তিনি বলেন, “একটি ভয়ঙ্কর দুঃশাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান এবং প্রায় দেড় বছরের মাথায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাকে অনেক কিছু উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংকের লুটপাট, টাকা পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং লুটপাট এগুলো পেতে হয়েছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। এর মধ্যে সরকারকে দেশ পরিচালিত করতে হচ্ছে।”
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, “২ হাজার নেতাকর্মী গুম, ২০ হাজার নেতাকর্মী খুন ও ৭০ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছিল। আমিও ১৫০ মামলার আসামি। অসংখ্য নেতাকর্মীরা এখনো আদালত হাজিরা দিতে হয়।”
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে পাশ কাটিয়ে যারা রাজনীতি করতে চায়, আমি মনে করি তাদের এই দেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই। আজকে সবাইকে বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বুলু বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে আপস করেনি। কারাগারে স্লো পয়জনিং করা হলেও তিনি আপস করেননি, দেশ ছেড়ে যাননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও আপস করেনি। তাদের সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী দিনেও একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ উপহার দেবন। দেশকে নতুন করে গড়ে তুলবেন।”
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “দেশের অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। আগামী দিনেু ডাক পড়লে, দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৩৬ দিনের আন্দোলন নয়, এটা ছিল ১৬ বছরের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু জুলাইয়ের চেতনার কথা বলে গত ২ বছর ব্যবসা-বাণিজ্য টেন্ডার নিয়েছেন। নতুন প্রায় ২ লাখ কোটিপতির জন্ম হয়েছে। এরা কারা? প্রত্যেকের আয়নায় মুখ দেখার দরকার।”
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। বিএনপি সনদের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে এমন প্রচার চলছে। লড়াই এখনো শেষ হয়নি, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
আয়োজক দলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাঈল সম্রাটের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।
