• আজ- লোড হচ্ছে...

কপোতাক্ষ নদের পাড়ে এখন শুধুই ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার / ৪৩ বার দেখেছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কপোতাক্ষ নদের পাড়ে এখন শুধুই ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক। সিএস ম্যাপ না মেনে নদী খনন করায় বদলে গেছে গতিপথ। নদী এসে ঠেকেছে জনবসতির একেবারে কাছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোন মুহুর্তে আবারও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের হাজারও মানুষ। তবে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান,বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশের পাহারা দিচ্ছে স্থানীয়রা। তারা বলেন, গত শনিবার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ছুটে আসেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকান।
স্থানীয়রা জানায়, নিয়ম না মেনে কপোতাক্ষ নদ খনন করায় গতিপথ বদলে জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে। ১২-১৩ বছর আগে পাখিমারা বিলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) প্রকল্প চালু করায় নদীর স্রোতে ঝুঁকিতে পড়ে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ। কয়েকটি অংশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনে ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমিন আক্তার বলেন, সময়মতো গ্রামবাসী এগিয়ে না এলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। তিনি অভিযোগ করেন, তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি।
বালিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজী বলেন,সম্প্রতি মূল বাঁধের একটি অংশে ভেঙ্গে গেলে নিজেদের প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামত করা হয়। দ্রুত বেড়িবাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা না করলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
জামাল উদ্দীন জানান, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় নদীর গতিপথ বদলে তা জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে। পরবর্তীকালে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্পের প্রভাবে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছরই একই এলাকার বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে।
তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বালিয়া গ্রামে সম্প্রতি মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে তা সাময়িক মেরামত করেন। তবে একাধিক স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তারা এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, বালিয়া এলাকার বাঁধের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন এবং আগেই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে,সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদের বাকি অংশ খনন ও দ্রুত ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

শেয়ার:
add 1


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে জেলার খবর