সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ সরকারি নিয়মনীতি না মেনে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকটিতে নিবন্ধিত ডিগ্রিধারী প্যাথলজিস্ট ও প্রশিক্ষিত ডিপ্লোমা নার্স না থাকার পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে করানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকটির প্যাথলজি বিভাগে অভিজ্ঞ ও অনুমোদিত প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ক্লিনিকের ম্যানেজার অরুণ কুমার মণ্ডল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুযায়ী, ১০ শয্যার একটি ক্লিনিকে নির্দিষ্টসংখ্যক মেডিকেল অফিসার ও নিবন্ধিত ডিপ্লোমা নার্স থাকার কথা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাগতা ক্লিনিকে একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দিলেও তাঁকে সহায়তা করছেন ডিপ্লোমাবিহীন নার্সরা।
এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রোগীর স্বজনদের হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে।
ক্লিনিকের লাইসেন্সের বিষয়ে স্বাগতা ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাতা অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ২০১৯ সালের পর নারকোটিকসের অনুমোদন না পাওয়ায় ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন জানান, ক্লিনিকটির বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের জীবন ও চিকিৎসাসেবার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।